শুক্রবার, ০৩ Jul ২০২৬, ০৭:৪২ পূর্বাহ্ন
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি॥ ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পূর্ব তেঁতুলবাড়িয়া গ্রামে একই রশিতে ফাঁস দিয়ে শ্যালিকা-দুলাভাই আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার দিনগত রাতে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পূর্বতেতুলবাড়িয়া গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটে।
বুধবার সকালে পুলিশ ওই গ্রামের পীরতলা মাঠের কড়ই গাছ থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, নারকেল বাড়িয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বদিউর রহমান।
পাশ্ববর্তী পিরোজপুর গ্রামের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম জানান, ৪/৫ বছর আগে পূর্বতেতুলবাড়িয়া গ্রামের সাইকেল মেকানিক মন্টু মোল্ল্যার ছেলে বিল্লাল হোসেনের সাথে একই গ্রামের সাখাওয়াত হোসেনের মেয়ে পিংকি খাতুনের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ২ বছরের একটি কন্যা সন্তানও রয়েছে। শ্বশুর বাড়িতে যাওয়া-আসার ফাঁকে এক পর্যায়ে দুলাভাই বিল্লালের সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন কলি খাতুন (১৪)। কলি খাতুন নারিকেলবাড়ীয়া জেড এম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী।
গত কয়েকদিন আগে তারা উভয়ই বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। মান সম্মানের ভয়ে বিল্লালের পরিবারের সদস্যরা গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যায়। শালি-দুলাভাই পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা ঝড় উঠে। তারা মঙ্গলবার দিনগত রাতে ফিরে আসে। তবে তারা কেউই বাড়িতে যায়নি। লোকলজ্জার কারনে দুভাভাই বিল্লাল ও শালি কলি ওই গ্রামের পীরতলা মাঠের কড়ই বাগানের গাছের একটি ডালে একই রশিতে ঝুলে দু’জনে আত্মহত্যা করে।
ঘোড়শাল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পারভেজ মাসুদ লিটন জানান, চার বছর আগে বিল্লাল হোসেনের সঙ্গে প্রেমের জের ধরে কলির বোন পিংকি খাতুনের বিয়ে হয়। তাদের ২ বছরের একটি সন্তান রয়েছে। একপর্যায়ে দুলাভাই বিল্লাল হোসেনের সঙ্গে কলির প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ১০ দিন আগে তারা পালিয়ে যান। জানতে পেরে অনেক চেষ্টার পর গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের মাধ্যমে তাদের ফিরিয়ে আনা হয়। অবশেষে রাতের কোনো এক সময় গ্রামের পীরতলা মাঠের একটি কড়ই গাছে একই রশিতে ঝুলে তারা আত্মহত্যা করেন।
নারকেল বাড়িয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বদিউর রহমান জানান, প্রায় ৮/১০ দিন আগে পরকীয়ার কারনে শালি ও দুলাভাই বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। মঙ্গলবার দিনগত রাতে ফিরে তারা একটি কড়াই গাছের ডালে একই রশিতে দু’জনে আত্মহত্যা করে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ঝিনাইদহ মর্গে পাঠিয়েছে।